পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতে শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ক্রমবর্ধমান রেমিট্যান্স প্রবাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
আজ প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক (মার্চ ২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যা ছিল ৩৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫.১১ বিলিয়ন ডলার।
বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, একই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা একটি ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করে। রিজার্ভের এই সঞ্চয় দেশের তারল্য বৃদ্ধি করেছে এবং ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে।
এই উন্নতির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৩ হাজার ২০ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে এটি কাঠামোগত উন্নতি। উচ্চ আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (আরইইআর) ভিত্তিক বিনিময় হার নিম্নমুখীভাবে সমন্বয় করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির সংকেত দেয়। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীল বিনিময় হার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার সাফল্যকেই প্রতিফলিত করছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা কল্যাণে বড় অগ্রগতি হিসেবে চালের মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চালের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪.২৪ শতাংশ, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৩৯ শতাংশে। বিশেষ করে মোটা চালে ঋণাত্মক মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে এবং মাঝারি ও উন্নত মানের চালের দাম কমেছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক। উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা, মৌসুমি ফসল এবং সরকারি মজুত থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে এই প্রবণতা দেখা গেছে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৮.১৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অধীনে ব্যয় এবং ব্যবহারের হারও ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে বোঝা যায়, বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেশজুড়ে অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
ব্যাংকিং খাতেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে, যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি বছরে ১০.৪৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি জনগণের আস্থা ও সঞ্চয়ের অনুকূল পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি সতর্ক ও সক্রিয় নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে।
Discover more from দৈনিক ন্যায়ের ডাক
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

