বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আবদুল হাকিম বলেছেন, গুটি কয়েক খারাপ সাংবাদিকের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজকে দোষারোপ করা যাবে না। আমরা দেশের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছি। ইতোমধ্যে ৩৩টি জেলার তালিকা যাছাই বাছাই চলছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আজও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। আপনারা আপনাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন। আমরা ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইনের মধ্যে আছি, কিন্তু এটি যুগোপযোগী করা জরুরি।
সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন যতদিন থাকবে ততদিন পেশার মান নিম্নগামী হবে বলে মন্তব্য করে তিনি সামাজিক ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজার প্রেসক্লাব আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
কক্সবাজার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভার আয়োজন করে কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন।
বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম আরো বলেন, দেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা এবং এখানে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক।
প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে নানা পরিবর্তন ঘটেছে। এ কারণে প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম ও সভা-সমাবেশ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলেও চেয়ারম্যানের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান। জনবলসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও গুণগত দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি পিছিয়ে নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি শ্রমনির্ভর পেশা হলেও এর তুলনায় সম্মান ও প্রাপ্তি এখনও পর্যাপ্ত নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব হচ্ছে সাংবাদিকদের মিলনমেলা। ঐক্যবদ্ধ থাকলে নিজেদের অধিকার আদায় সহজ হবে। মফস্বলের সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, পিআইবি এ ধরনের মৌলিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে মাহবুবর রহমান বলেন, নোয়াবে মফস্বল থেকে কোনো সম্পাদককে সদস্য না রাখা এক ধরনের বৈষম্য। এছাড়া সরকারি বিদেশ সফরে ঢাকার সাংবাদিকদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। মফস্বলের সাংবাদিকরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও একই বৈষম্য রয়েছে। তিনি এসব বৈষম্য দূরীকরণে প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক নাম মাত্র মূল্যে প্রেসক্লাবের জন্য জমি লিজ দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাহবুবর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ক্রীড়া সম্পাদক এম আর মাহবুবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, প্রেসক্লাবের সদস্য শামসুল হক শারেক, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর ও জেলা তথ্য অফিসার আব্দুস সাত্তার।
Discover more from দৈনিক ন্যায়ের ডাক
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

