ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার ভ্যাটিকানে পৌঁছে পোপ পোপ চতুর্দশ লিও’র সঙ্গে তার প্রথম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ইরান যুদ্ধ।
বৃহস্পতিবার রোমে পৌঁছানোর পর মাখোঁ তার স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁকে সঙ্গে নিয়ে এই সফরে অংশ নেন। তিনি পোপের পাশাপাশি ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েত্রো পারোলিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
ভ্যাটিকান সিটি থেকে এএফপি জানায়, মাখোঁর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বৈঠকে মূলত ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান’ নিয়েই আলোচনা হবে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে লেবানন পরিস্থিতি, যেখানে ইসরাইলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পোপ চতুর্দশ লিও গত বছরের শেষ দিকে তার প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে লেবানন সফর করেন এবং সেখানে সংঘাতের শিকারদের জন্য বারবার প্রার্থনা করেছেন।
অন্যদিকে মাখোঁও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ক্যাথলিক সংগঠন সান্ট’এজিদিও কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সংগঠনটি মধ্যপ্রাচ্য ও মানবিক ইস্যুতে ভ্যাটিকানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আন্দ্রেয়া রিকার্দি বলেন, ‘মাখোঁ একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ’ এবং তিনি লেবাননের কর্তৃপক্ষকে সমর্থন দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাখোঁ ও পোপ উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন।
পোপ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন, আর মাখোঁ বলেছেন, ‘অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তা এলোমেলো।’
উভয়েই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
এর আগে মাখোঁর সঙ্গে পোপ ফ্রান্সিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি তিনবার পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে গর্ভপাতকে ফ্রান্সের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ‘সহায়তাপ্রাপ্ত মৃত্যু’ চালুর প্রস্তাব নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধও ছিল।
মাখোঁ আশা করছেন, নতুন পোপকে শিগগিরই ফ্রান্স সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন।
উল্লেখ্য, পোপ চতুর্দশ লিও আগামী তিন দিনের মধ্যে আলজেরিয়া সফরে যাচ্ছেন, যা হবে কোনো পোপের দেশটিতে প্রথম সফর।
Discover more from দৈনিক ন্যায়ের ডাক
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

