🕒

 কুরাসাও গোলরক্ষক এলোয় রুমের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে ইকুয়েডরের সাথে গোলশুন্য ড্র করে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে নবাগত কুরাসাও।

দক্ষিণ আফ্রিকান বাছাইপর্বের টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডর পোস্টে ২৮টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি ছিল টার্গেটে। কানসাস সিটিতে কাল রুম একাই যেন কুরাসাওকে রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কোনভাবেই রুমকে পরাস্ত করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকার জায়ান্টরা। 

গোলশুন্য এই ড্রয়ে পুঁচকে দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাওর বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেলার স্বপ্ন কিছুটা হলেও টিকে রয়েছে। 

ফুটবলের বিশ্ব মঞ্চে এ পর্যন্ত খেলা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে কুরাসাও এবার অংশ নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল। মিয়ামি এফসি গোলরক্ষক রুমের অসাধারণ নৈপুন্যে এখন তারা মাঠের লড়াইয়েও নিজেদের প্রমান করলো। 

১৯৬৬ সালের পর রুমের এই ১৫ সেভ এখন বিশ্বকাপের এক অনন্য রেকর্ড। বিশ্বকাপে কোন গোলরক্ষক এত বেশী সেভ আগে কখনও করেনি। 

প্রথম ম্যাচে গ্রুপ জায়ান্ট জার্মানীর কাছে ৭-১ গোলে পরাজিত হবার পর কুরাসাও বিশ্বকাপের আসল আমেজ কাল গ্রহণ করেছে। যে কারনে স্বাভাবিক ভাবেই পুরো দলের উচ্ছাসটা ছিল একটু বেশী। 

নিজেদের এক্স এ্যাকাউন্টে কুরাসাও পোস্ট করেছে, ‘ইতিহাস! ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের প্রথম পয়েন্ট।’ 

রুম বলেন, ‘আমি এখনও নিজেকে যেন ম্যাচের মধেই রেখেছি। এই ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগী ছিল। সবাই জানতাম ম্যাচটা অত্যন্ত কঠিন হবে। আমি বেশ কিছু সেভ করেছি। কিন্তু আমার মনে হয় প্রথম সেভের পর থেকেই আমি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম, এমনকি পুরো দলও। ওখান থেকেই আমরা পুরো দল সামনে এগিয়ে গেছি। শেষ মিনিট পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি। এভাবে পয়েন্ট আদায় করা কুরাসাওয়ের জন্য বিশেষ কিছু।’

২৬ সদস্যের কুরাসাও দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক এ্যাডভোকাট। ৭৮ বছর বয়সী এ্যাডভোকাট এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশী বয়সী কোচ হিসেবে ডাগআউট সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন। কুরাসাও স্কোয়াডের ২৫ জনেরই জন্ম নেদারল্যান্ডসে এবং অনেকেই সেখানকার লিগে খেলে থাকেন। 

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ইকুয়েডর সুযোগ তৈরী করেছিল। মধ্যমাঠ থেকে ওয়েস্ট হ্যাম ফরোয়ার্ড এনার ভ্যালেন্সিয়া এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার শট রুম কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করেন। ইকুয়েডর অধিনায়ক ভ্যালেন্সিয়া পোস্টে খুব কাছ থেকে রুমকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন। জডি আলকিভারও ইকুয়েডরকে এগিয়ে দিতে পারেননি। ঘন্টাখানেক পর ডেডলক ভাঙ্গার সবচেয়ে সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয় ইকুয়েডরের। গনজালো প্লাটার হেড রুম রুখে দেন। 

প্রতিপক্ষের তুলনায় ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫০’রও বেশী উপরে থাকা ইকুয়েডর বারবার চেষ্টা করেও কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version